সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
যশোর সদর থানার গাঁওঘরা গ্রামের এক ব্যক্তি গত ৩১ মে তার বসতবাড়ির কয়েকটি মেহগনি গাছ বিক্রি করেন। মেহগনি গাছ কাটার পর গাছের গুঁড়ির নিচে থেকে একটি খৈইয়া গোখরা সাপ বের হয়ে আসে। উৎসুক জনতা সঙ্গে সঙ্গে সাপটিকে মেরে ফেলে।
পরবর্তীতে গাছের গুঁড়ির নিচে মাটির ভেতর গোখরা সাপের ডিম ও অপর একটি গাছের গুঁড়ির নিচে মাটির ভেতর ঢোঁড়া সাপের ডিম দেখতে পায়; সেগুলোও উৎসুক জনতা নষ্ট করতে চাইলে রক্সি নামের স্থানীয় এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র বাধা দেন এবং দ্রুত বন্যপ্রাণী ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের পরিচালক জহির আকনকে জানান।
পরে ৪৭টি খৈইয়া গোখরা এবং ১৫টি ঢোঁড়া সাপের ডিম স্থানীয় বন বিভাগের সহযোগিতায় উদ্ধার করে গাজীপুরের শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টারে পাঠানো হয়।
শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টারের কর্তৃপক্ষ প্রাকৃতিকভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অবশেষে গত ২০ তারিখ প্রথম একটি খৈইয়া গোখরা সাপের বাচ্চা ফোটে এবং পরবতীতে ২৩ তারিখ পর্যন্ত মোট ৪৪টি খৈইয়া সাপের বাচ্চা ফোটে যা সফলতার হারে প্রায় ৯৪ শতাংশ। এই সময়ে ১০টি ঢোঁড়া সাপের বাচ্চা জন্মগ্রহণ করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টার গাজিপুরের হারপেটোলজিস্ট মো. সোহেল রানা জানান, বাচ্চাগুলোর যত্ন নেওয়া হচ্ছে । পরবর্তীতে কি করা হবে তার সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, সদ্য ফোটা বাচ্চা ২০-৩০ সেমি লম্বা হয়। দেহ লম্বা ও মোটাসোটা। পুরুষ গোখরা লম্বা ও শক্তিশালী। মাথা চ্যাপটা ও ত্রিকোণাকৃতি। দেহের ওপরটা ধূসর-বাদামি বা বাদামি-কালো; ফণার পেছনে চশমার মতো ছোপ রয়েছে, কিন্তু দেহের রং ও ফণার ছোপের ধরনে ভিন্নতা থাকতে পারে। দেহের নিচের রং হালকা, গলায় কালো দাগ বা ব্যান্ড থাকে। ফণা তোলার সময় ঘাড় প্রসারিত করতে পারে। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ে প্রজনন করে।